বিশ্ববাজারে ২০২৫-২৬ মৌসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) চিনির দাম আগের তুলনায় কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে ভারত ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা। এছাড়া এ সময় ব্রাজিলেও উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট)। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ বৃদ্ধির পূর্বাভাসে এরই মধ্যে চিনির দাম কমতে শুরু করেছে। নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে সম্প্রতি প্রতি পাউন্ড অপরিশোধিত চিনির দাম ১৬ দশমিক ৪৪ সেন্টে নেমেছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। লন্ডনে প্রতি টন পরিশোধিত চিনির দর ছিল ৪৬১ ডলার ৯০ সেন্ট। এছাড়া মে মাসে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির দাম যথাক্রমে ২ ও ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
এর আগে কিছু প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অপরিশোধিত চিনির বাজারে কিছু বিনিয়োগকারী এখনো লাভের প্রত্যাশায় আছেন। তবে বিএমআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারে সামগ্রিকভাবে এমন সম্ভাবনা কমেছে। বর্তমানে অনেকেই দাম কমার আশঙ্কায় বিক্রি বাড়িয়েছেন। ফলে পণ্যটির বাজারদর আরো কমছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারে এমন পরিস্থিতির মূল কারণ সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ভারতে অনুকূল আবহাওয়ার প্রভাবে চিনি উৎপাদন ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ভারতের ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজ জানিয়েছে, বর্তমান মৌসুমের তুলনায় আগামী মৌসুমে চিনি উৎপাদন ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে।
যদিও এ সময় ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে সম্ভাব্য চিনি উৎপাদনে পূর্বাভাস সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান জার্নিকোভ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রাজিলে আগামী মৌসুমে ৩ কোটি ৯২ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল চার কোটি টন। এ সময় থাইল্যান্ডের উৎপাদন ১ কোটি ১৬ লাখ টন থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টনে নামিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে ডাচ আর্থিক সংস্থা আইএনজির বিশ্লেষণী শাখা ‘আইএনজি থিংক’ জানিয়েছিল, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক চিনি উদ্বৃত্ত অনেকটাই ভারতের উৎপাদনের ওপর নির্ভর করছে।
বিএমআই বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমায় ব্রাজিলে ইথানলের পরিবর্তে চিনি উৎপাদনে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এ প্রবণতা দামের ওপর আরো চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে ব্রাজিলের সুগার ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন ইউনিকা জানিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে ১৬ মের মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চলে চিনি উৎপাদন ২২ দশমিক ৭ ও সাও পাওলোয় ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে আখ কাটার ধীরগতি। যদিও গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, উৎপাদন বাড়ার আশাবাদ এখনো বজায় রয়েছে।